খারসোয়া গোলিকাণ্ড: কী ঘটেছিল ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারিতে?

By adibasijournal

ভূমিকা:

সুদীর্ঘ কাল থেকে আদিবাসী সমাজ নিজেদের জন্য এক আলাদা আদিবাসী রাজ্যের দাবী তুলে আসছে। এই দাবী আরও প্রসার পায় যখন ১৯৩৬ সালে মাড়াং গমকে কেন্দ্র করে জায়পাল সিং মুন্ডা আদিবাসী মহাসভা গঠন করেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্যের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চারিদিকে মিছিল-সমাবেশ চলছে। সেই সময় বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সকল আদিবাসী মানুষ আলাদা এক আদিবাসী রাজ্যের দাবী তুলে ধরেন।

কিন্তু ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন উড়িষ্যা সরকার আদিবাসী বহুল এলাকাগুলো ওড়িশা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব জারি করে। এই প্রস্তাবে আদিবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঝাড়খন্ডের সিংভূম জেলার খারসোয়াতে জনসভা আয়োজন করেন। জনসভায় প্রায় ৫০ হাজার আদিবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ:

জনসভায় আদিবাসী নেতা জায়পাল সিং মুন্ডার আগমনের অপেক্ষায় আছিবাসীরা ছিলেন। কিন্তু জায়পাল সিং মুন্ডা জনসভায় উপস্থিত হতে পারেননি। তৎকালীন উড়িষ্যা সরকারের অনুমতিতে জওয়ানরা জনসভায় গুলি চালায়। গুলির মুখে আদিবাসীরা পালিয়ে যেতে পারেনি। এতে প্রায় হাজার হাজার আদিবাসী নিহত হন। মৃতদেহগুলো খারসোয়ার পাশে অবস্থিত এক কুয়তে ফেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়, ট্রাক ভর্তি মৃতদেহগুলো সারান্ডা জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়।

খারসোয়া গোলিকাণ্ডের প্রভাব:

খারসোয়া গোলিকাণ্ড আদিবাসী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ঘটনার মাধ্যমে আদিবাসীরা তাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে শিখেছে। এই ঘটনার পর আদিবাসীরা তাদের অধিকারের জন্য আরও বেশি সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

খারসোয়া গোলিকাণ্ডের ফলে আদিবাসী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই ঘটনার পর আদিবাসীরা তাদের অধিকারের জন্য আরও বেশি সংগঠিত হয়ে ওঠেন। তারা তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান।

খারসোয়া গোলিকাণ্ডের ফলে ভারত সরকারের কাছে আদিবাসীদের অধিকারের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর ভারত সরকার আদিবাসীদের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করে।

খারসোয়া গোলিকাণ্ডের শিক্ষা:

খারসোয়া গোলিকাণ্ড থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হলে সাহসী হতে হয়। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

উপসংহার:

খারসোয়া গোলিকাণ্ড একটি কালো অধ্যায়। এই ঘটনা আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের প্রতীক। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হলে সাহসী হতে হয়।

প্রশ্ন ১: খারসোয়া গোলিকাণ্ড কী?

উত্তর: খারসোয়া গোলিকাণ্ড হল ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি ঝাড়খন্ডের সিংভূম জেলার খারসোয়ায় সংঘটিত একটি গণহত্যা। এই গণহত্যার শিকার হয় প্রায় হাজার হাজার আদিবাসী।

প্রশ্ন ২: খারসোয়া গোলিকাণ্ডের কারণ কী ছিল?

উত্তর: খারসোয়া গোলিকাণ্ডের কারণ ছিল তৎকালীন উড়িষ্যা সরকারের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলো ওড়িশা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু তৎকালীন উড়িষ্যা সরকারের অনুমতিতে জওয়ানরা আদিবাসীদের উপর গুলি চালায়।

প্রশ্ন ৩: খারসোয়া গোলিকাণ্ডের প্রভাব কী ছিল?

উত্তর: খারসোয়া গোলিকাণ্ড আদিবাসী ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এই গণহত্যার ফলে আদিবাসীরা তাদের অধিকারের জন্য আরও বেশি সোচ্চার হয়। এছাড়াও, এই গণহত্যার ফলে ভারত সরকার আদিবাসীদের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন ৪: খারসোয়া গোলিকাণ্ডের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কী করা হয়?

উত্তর: খারসোয়া গোলিকাণ্ডের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর ১ জানুয়ারি “খারসোয়া গোলিকাণ্ড” বা “কালো দিবস” পালন করা হয়। এই দিনে আদিবাসীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

প্রশ্ন ৫: খারসোয়া গোলিকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

উত্তর: খারসোয়া গোলিকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বিভিন্ন বই, নিবন্ধ এবং ওয়েবসাইটে। এছাড়াও, খারসোয়া গোলিকাণ্ডের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঝাড়খন্ড সরকার একটি জাদুঘর নির্মাণ করেছে।

Leave a Comment